শিক্ষকদের শিক্ষকদেরইএফটির তথ্য হালনাগাদে চরম ভোগান্তি

এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের বেতন ইএফটিতে দেয়ার জন্য তথ্য ফরম পূরণ শুরু হয়েছে। তবে, তথ্য হালনাগাদ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষকদের। মূলত ইএমআইএস সার্ভারের ধীর গতি ও কর্মকর্তাদের অদক্ষতার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে  শিক্ষকদের। এত শিক্ষকের তথ্য অন্তুর্ভুক্ত করার সক্ষমতা ইএমআইএস সেলের নেই। শিক্ষকরা বলছেন, তথ্য হালনাগাদ করে সাবমিট দিলে সার্ভারটা অন্তর্ভুক্ত করতে পারছে না। ব্রাউজার শুধু লোডিং দেখাচ্ছে। তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে না পেরে অনেক শিক্ষক ফেব্রুয়ারির এমপিও পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

যদিও ইএমআইএস সার্ভারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন আগেও উঠেছে। গতবছর এমপিওভুক্তির আবেদন গ্রহণের সময়েও সার্ভারের অসক্ষমতায় শিক্ষকরা ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারাও নির্ধারিত সময়ে বদলির আবেদন করতে গিয়েও একই কারণে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। যদিও এসব কাজে অনেক কম শিক্ষকের সম্পৃক্ততা ছিল। সেই সার্ভারেই প্রায় ৫ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীর ইএফটির তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তথ্য দিতে ভোগান্তিতে পড়া শিক্ষকরা দৈনিক শিক্ষাডটকমের সাথে যোগাযোগ করে বেতনভাতা প্রাপ্তি নিয়ে নিজেদের দুশ্চিন্তার কথা জানাচ্ছেন।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত থেকে ইএমআইএস সেলের ওয়েবসাইটে আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে শিক্ষকরা ইএফটির তথ্য ফরম পূরণ করতে পারছেন। আগামী ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের ফরম পূরণ করতে হবে। সব এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের আগামী ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইএফটির তথ্য সঠিকভাবে হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর।

শিক্ষকরা অভিযোগ করে দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলছেন, তথ্য অন্তর্ভুক্তিতে ভোগান্তি কম থাকলেও মূল ভোগান্তি শুরু হচ্ছে সাবমিট দেয়ার পর থেকে। তথ্য সাবমিট দিলে সার্ভার দীর্ঘ সময় ধরে লোডিং দেখাচ্ছে। তা সাবমিট হচ্ছে না। সারাদেশের অনেক শিক্ষক কর্মচারী তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়ছেন। আগে এমপিও আবেদনের সময়ও সমস্যায় পড়েছিলেন শিক্ষকরা।

যদিও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ভোগান্তিতে পড়া শিক্ষকদের ইএমআইএস সেলের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন। শিক্ষকদের ভোগান্তির বিষয়ে জানানো হলে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, শিক্ষকরা ভোগান্তিতে পড়া শিক্ষকদের ইএমআইএস সেলের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

ইএমআইএস সেলের সক্ষমতা নিয়ে জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, ইএমআইএস সার্ভারের সক্ষমতা বৃদ্ধি আসলে একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা কিছুদিন আগেও ইএমআইএস নিয়ে কাজ করেছি। ইএমআইএসের সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ চলবে বলেও জানান মহাপরিচালক।
মার্চ মাসে ফেব্রুয়ারির এমপিওর টাকা ইএফটির মাধ্যমে পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে শিক্ষকদের তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে। ইএফটির মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতনের তথ্য হালনাগাদের নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষকরা নির্দেশিকা অনুসারে তথ্য হালনাগাদ করতে পারবেন।

অধিদপ্তর বলছে, প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ইএমআইএস সেলের ওয়েবসাইটে (www.emis.gov.bd) আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করে এমপিও মডিউলের ইএফটি ইনফরমেশন আপডেট বা ইফটি তথ্য হালনাগাদ মেনুতে প্রবেশ করে সব শিক্ষক কর্মচারীর তথ্য ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হালনাগাদ করতে হবে। এ জন্য কোন কারিগরি সহায়তার জন্য ইমেইলে info.mop.dshe@gmail.com ঠিকানায় যোগাযোগ করতে হবে। তথ্য সঠিক না থাকলে ইএফটির মাধ্যমে এমপিওর টাকা শিক্ষক কর্মচারীদের ব্যাংক হিসেবে জমা হবেনা বলেও জানিয়েছে অধিদপ্তর।

শিক্ষকদের বেতন ইএফটির মাধ্যমে কবে দেয়া হবে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোমিনুর রশিদ আমিন দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, আশা করছি, ফেব্রুয়ারির এমপিও মার্চ মাসে শিক্ষকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো সম্ভব হবে।

জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বর মাসে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে এক সভায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন ইএফটিতে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ইএফটিতে এমপিওর টাকা দিতে শিক্ষকদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর। ৯ ধরণের তথ্য সংগ্রহ করে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষক-কর্মচারীদের।

ইএফটিতে বেতন পেতে শিক্ষকদের যেসব তথ্য লাগবে তা হল, জাতীয় পরিচয় পত্রের নম্বর, এসএসসির সনদ অনুযায়ী শিক্ষকদের নাম-এক্ষেত্রে শিক্ষাসনদ, এমপিও শিট ও জাতীয় পরিচয়পত্রে নামের বানান একই হতে হবে। কর্মচারীদের সর্বশেষ শিক্ষাসনদের নাম, শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজ নামের ব্যাংক হিসাব, ব্যাংকের নাম, শাখার নাম, রাউটিং নম্বর, ব্যাংক হিসাব নম্বর (১৩-১৭ ডিজিটের), শিক্ষক কর্মচারীদের জন্মতারিখ, বেতন কোড ও বেতনের ধাপ এবং শিক্ষক কর্মচারীদের মোবাইল নম্বর। এদিকে শিক্ষা অধিদপ্তরের ইএমআইএস সেলের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ইএফটিতে বেতন প্রক্রিয়া নানাভাবে বিলম্বিত করার জন্য নানা ফন্দি করার অভিযোগ উঠেছে।

সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনও ইএফটিতে দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। প্রক্রিয়াটি করতে গিয়ে ঘুষ-দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও অধিদপ্তর এ জন্য লেনদেন না করতে শিক্ষকদের পরামর্শ দিয়েছে।

 

Leave a Comment