বুধবার , আগস্ট ১২ ২০২০
Home / NEWS / বিষণ্ণ ঈদযাত্রা

বিষণ্ণ ঈদযাত্রা

বিষণ্ণ ঈদযাত্রা

করোনাভাইরাসের মহামারি চলমান। থমকে আছে মানুষের জীবন-জীবিকা। এরই মধ্যে ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হতে যাচ্ছে। কঠোরতা না থাকায় ঈদে শ্রমজীবী মানুষ গ্রামের বাড়ি যাওয়া শুরু করেছেন। তবে গ্রামে ফেরা মানুষের ঢল নামবে ঈদের আগের দিন। সরকারের উদ্যোগ কার্যত করোনাভাইরাসের বিষণ্ণতার মধ্যে দেশের মানুষের প্রাণস্পন্দন জাগানোর চেষ্টা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদে গ্রামে যাওয়ার বিষয়ে কঠোর না হলে ঈদ-পরবর্তী করোনা আক্রান্ত ভয়ঙ্কর অবস্থা ধারণ করতে পারে। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুখরতা বাড়ানোর একমাত্র পথ বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ নেওয়া।

অন্য কোনো পথ খোলা নেই বলে মনে করছেন বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, করোনা রোধে বিজ্ঞান ছাড়া অন্য কোনো পথে যাওয়ার চেষ্টা বোকার রাজ্যে বসবাস। সবার আগে প্রয়োজন ছিল করোনা নিয়ন্ত্রণে কৌশলপত্র পরিষ্কার করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটাই পরিষ্কার করা যায়নি। পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় এমন সমস্যা রয়েছে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। এ কারণে করোনা পরিস্থিতি হ-য-র-ল অবস্থা। করোনা নিয়ন্ত্রণে এ অঞ্চলের দেশগুলোর প্রশাসনিক দুর্বলতা, রাজনৈতিক দুর্বলতা, নেতৃত্বের দুর্বলতা ও দূরদৃষ্টির অভাবে এটা করা যায়নি। ঈদ সামনে করে করোনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের যে ব্যবস্থা, তা করোনা আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে ঠেলে দেবে।

করোনার কারণে প্রতিদিন যেভাবে মানুষের মৃত্যু ও আক্রান্তের খবর আসছে, তা মোটেই সুখবর নয়। করোনা নিয়ন্ত্রণে এখন পর্যন্ত কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন বের না হওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে জীবন-ভীতি আরও বাড়ছে। পাশাপাশি রোজগারহীন মানুষের লাইনও বড় হচ্ছে। এ সময় সরকার সতর্কতার পাশাপাশি করোনার ভীতি পেছনে ফেলে কাজে ফিরুক সেটা চাচ্ছে।

করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর মধেই ঈদের আগে গণপরিবহনের খুলে রাখা হয়েছে। ফলে মানুষ গাদাগাদি করে বাড়ি যাওয়া-আসা করবে। এতে করোনা আক্রান্ত হওয়ার নতুন করে ঝুঁকি তৈরি করবে। এ অবস্থা থেকে সতর্কতামূলক অবস্থা হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে মাস্ক ব্যবহারের জন্য আইন করছে, অন্যদিকে ঈদের আগে-পরে গণপরিবহন খোলা রাখছে। ফলে ঈদ কেন্দ্র করে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের প্রধান শিল্প খাত তৈরি পোশাক সরকারের পক্ষ থেকে ছুটি কমিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আমরাও সেটা করব। কিন্তু ঈদের আগে পরে একদিন করে ছুটি দিলেও তারা রাতে বাড়ি চলে যাবে আর কারখানা খোলার দিন সকালে এসে অফিস শুরু করবে। শ্রমিকদের গ্রামে যাওয়া রোধ করতে হলে ঈদের আগে পরে গাড়ি বন্ধ রাখতে হবে। করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে মানুষের জীবন-জীবিকা থমকে গেছে। এর ফলে আমদানি-রপ্তানি কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে মানুষের আয়ে।

এমপিওভুক্ত ও সরকারি শিক্ষকদের চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য
এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকার মার্কেট ও বিপণি বিতান খুলে দিলেও মানুষ ক্রয় করতে পারছে না। ফলে মার্কেট যেমন জমে উঠেনি। তেমনি করোনা সংক্রমণ এবং মৃত্যুও থামিয়ে রাখা যায়েনি।

এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, করোনা নিয়ে সরকার যা করতে চাইছে তা হলো অস্পষ্ট কৌশল নিয়ে করনার মতো ভয়ঙ্কর ব্যাধির সঙ্গে অসম যুদ্ধ। এর ফলে অর্থনীতিতে না ফিরবে প্রাণচাঞ্চল্য, না বাড়বে মানুষের চাহিদা। করোনার কারণে দেশে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে ১৩ শতাংশ মানুষ কাজ হারিয়েছে। আর চাকরি আছে কিন্তু বেতন কমেছে- এমন মানুষের হার আরও বেশি; ২৫ শতাংশ। রপ্তানি কমে নেমেছে অর্ধেকে। ফলে সব চেয়ে বড় যে কাজটি হয়েছে তা হলো মানুষের জীবন-ভীতি পেয়ে বসেছে। অন্যদিকে আবার আয়-রোজগার ছাড়া মানুষ অনাহারি থাকার উপক্রম হয়েছে।

এ অবস্থায় থেকে উত্তরণে সরকার শিল্প-কলকারখানা খুলে দিয়েছে। ঈদকে সামনে করে মাস্ক ব্যবহারের কথা বললেও বাইরের বের হওয়া ব্যাপারে সরকারের কঠোর উদ্যোগ নেই। এ অবস্থায় রাজধানীতে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা মানুষকে সাহসী করার চেষ্টা করছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। কিন্তু সরকারের এ উদ্যোগে সফলতা আসেনি বলে মনে করেন আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, মানুষকে উৎপাদনে নিয়োজিত করার চেষ্টা করলেও সেভাবে রপ্তানির ক্রয়াদেশ বাড়েনি।

মানুষের রোজগার বাড়েনি। রোজগার না বাড়ার কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়েনি। বিপণি বিতান খুলে রাখলেও সেখানে মানুষ যাচ্ছে না। সবার আগে যে কাজটি করতে হবে তা হলো করোনা আক্রান্তকে থামিয়ে রাখা। সে কাজটি দক্ষতার সঙ্গে করা যাচ্ছে না। ফলে ঈদের ছুটিতে মানুষ গ্রামমুখী হলেও আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা থাকছেই।

Check Also

বন্যায় দেশের ৩১ জেলার মানুষ পানিবন্দি

বন্যায় দেশের ৩১ জেলার মানুষ পানিবন্দি বন্যায় ৩১ জেলায় এ পর্যন্ত ৮ লাখ ৬৫ হাজার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *